অভিনয় শিক্ষা প্রথম ভাগ দ্বিতীয় পর্ব

MISTI DEY (মিষ্টি দে)
  1. ঋগ্বেদ – দেবতাদের উদ্দেশ্যে রচিত স্তোত্র, প্রার্থনা ও স্তুতি।
  2. যজুর্বেদ – যজ্ঞ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কীভাবে সম্পন্ন করতে হয় তার নিয়ম।
  3. সামবেদ – সুর করে গাওয়ার জন্য মন্ত্র; ভারতীয় সঙ্গীতের প্রাচীন ভিত্তিগুলোর একটি।
  4. অথর্ববেদ – দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্য, শান্তি, গৃহস্থ জীবন, প্রার্থনা এবং বিভিন্ন আচার-সংক্রান্ত মন্ত্র।

সংক্ষেপে বলতে গেলে—

  • ঋগ্বেদ = স্তোত্র
  • যজুর্বেদ = যজ্ঞের নিয়ম
  • সামবেদ = সঙ্গীত ও সুর
  • অথর্ববেদ = দৈনন্দিন জীবন ও কল্যাণ

পঞ্চম বেদ" বলতে সাধারণত নাট্যশাস্ত্র-কে বোঝানো হয়। 

কাহিনি অনুযায়ী:

  • দেবতারা ব্রহ্মা-র কাছে এমন একটি বিদ্যার প্রার্থনা করেন, যা সমাজের সব মানুষ—বর্ণ, বয়স বা শিক্ষার ভেদাভেদ ছাড়াই—উপভোগ করতে ও শিখতে পারে।
  • তখন ব্রহ্মা চার বেদের মূল উপাদান নিয়ে একটি নতুন শাস্ত্র সৃষ্টি করেন, যার নাম নাট্যবেদ বা পঞ্চম বেদ

চার বেদ থেকে নেওয়া উপাদানগুলি হলো—

  • ঋগ্বেদপাঠ্য (সংলাপ ও বাচিক অংশ)
  • সামবেদগীত (সঙ্গীত)
  • যজুর্বেদঅভিনয় ও আঙ্গিক ক্রিয়া (অঙ্গভঙ্গি, মঞ্চ-আচার ও উপস্থাপনা)
  • অথর্ববেদরস ও ভাব (মানবিক অনুভূতি ও আবেগ)

এরপর ব্রহ্মা এই নাট্যবেদ ভরত মুনি-কে শিক্ষা দেন। ভরত মুনি তাঁর শত পুত্র ও শিষ্যদের নিয়ে এর প্রয়োগ করেন এবং পরে সেটিই নাট্যশাস্ত্র আকারে সংকলিত হয়।

অতএব এটা বলা যায় নাট্যশাস্ত্র ভরত মুনি দ্বারা রচিত। 

সংক্ষেপে:

ঋগ্বেদ (সংলাপ) + সামবেদ (সঙ্গীত) + যজুর্বেদ (অভিনয়) + অথর্ববেদ (রস) = নাট্যবেদ (পঞ্চম বেদ)

এটি মূলত নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত একটি ঐতিহ্যগত ধারণা, যা নাট্যকলার উৎপত্তি ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

“যদিদং হৃদয়ং মম, তদস্তু হৃদয়ং তব"

অভিনয় শিক্ষা প্রথম ভাগ এর প্রথম পর্ব